নোয়াখালী-২ আসন: আ.লীগে একাধিক প্রার্থী, বিএনপিতে বিভক্তি, এগিয়ে ইসলামী আন্দোলন

3719

আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এলাকাভিত্তিক তাদের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন। এলাকায় বিভিন্ন সভা সমাবেশের মধ্য দিয়ে যেমন জনসংযোগ চালাচ্ছেন, তেমনি সংবাদ সম্মেলনসহ অন্যান্য আয়োজন করে কেন্দ্রের গুডবুকে নাম তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। একই চিত্র নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ি) আসনেও। বিএনপির দূর্গ বলে খ্যাত এ আসনটিতে বর্তমানে বিএনপির মধ্যেই বিভক্তি দেখা দিয়েছে। আর ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের টিকেট নিতে দৌঁড়ঝাপ করছেন একাধিক মনোনয় প্রত্যাশী। অন্যান্য দলগুলোর অবস্থা উল্লেখ করা মতো না। তবে এই সুযোগে কেন্দ্রের ঘোষণা পেয়ে এককভাবে এগিয়ে আছেন ইসলামী আন্দোলন থেকে মনোনীত তরুণ প্রার্থী খলিলুর রহমান।

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি অংশ নেয়নি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেঙ্গল গ্রুপ ও আরটিভির চেয়ারম্যান আলহাজ মোরশেদ আলম জয়ী হন। তবে তিনি এমপি হলেও এলাকায় আওয়ামী লীগের পুরোনো কোন্দল মেটাতে পারেননি। এর আগে এ আসনটি টানা ৫ বার বিএনপির দখলে ছিলো। তবুও বর্তমানে এ আসনে বিএনপিতে রয়েছে দুটি আলাদা ধারা।

আরও পড়ুন: আল্লাহর জন্য রাজনীতি করেন মুফতি ফয়জুল্লাহ   

এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান এমপি বেঙ্গল গ্রুপ ও আরটিভি’র চেয়ারম্যান আলহাজ মোরশেদ আলম, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সেক্রেটারি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ এফসিএ, সানজী গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মেঘনা ব্যাংকের পরিচালক লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মানিক, সেনবাগ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ জাফর আহম্মদ চৌধুরী, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও তমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক-এর নাম আলোচনায় রয়েছে।

বর্তমান এমপি সেনবাগ-সোনাইমুড়িতে দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। তার আমলে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। তবে সেনবাগের সঙ্গে উপজেলা সদরের সংযোগ স্থাপনকারী সেনবাগ-সোনাইমুড়ি সড়কটির উন্নয়ন না হওয়ায় তিনি কিছুটা বেকায়দায় রয়েছেন।

অন্যদিকে ২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ এফসিএ। এর পর থেকে তিনি সব সময় ব্যক্তিগত ভাবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ও সেনবাগে স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় বিনামূল্যে কম্পিউটার, প্রজেক্টর বিতরণ এবং বেকার শিক্ষিত যুবকদের চাকরির ব্যবস্থা করে প্রশংসিত হয়েছেন। অপরদিকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক শিল্পপতি লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মানিক বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে একটি সু-সম্পর্ক তৈরি করেছেন।

তিনি এলাকায় গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে নিজ অর্থে বাড়ি-ঘর নির্মাণ ও আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা এবং মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ জাফর আহম্মদ চৌধুরীও এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি শিক্ষা বিস্তারে স্কুল-কলেজ, শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ও দান-অনুদান দিয়ে এলাকার লোকজনের পাশে রয়েছেন। অপরদিকে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক। এলাকার দুস্থ, গরিব ও অসহায়দের মাঝে শাড়ি বিতরণ করে এবং সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে আলোচিত হয়েছেন। অপরদিকে, এখানে বিএনপিতেও দলীয় কোন্দল চলছে।

আরও পড়ুন: ‘ফুল টাইম পলিটিশিয়ান’ গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া

এদিকে এ আসন থেকে টানা ৫বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের সঙ্গে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে ত্যাগী নেতাদের দ্বন্দ্ব চলছে। তিনি নিজ কন্যা এবং ভাতিজাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেয়ায় এ কোন্দল সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও সেনবাগ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ কাজী মফিজুর রহমান মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ ছাড়া বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, সংযুক্ত আরব আমিরাত স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মানিকের নামও বিএনপির তালিকায় রয়েছে।

জাতীয় পার্টি থেকে এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও এস.এ গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাহ্‌ উদ্দিন আহমেদ, জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সেনবাগ উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক হাসান মঞ্জুর। এখানে জাসদ (রব) থেকে নির্বাচন করবেন রফিকুল ইসলাম। জাসদ (ইনু) থেকে জুয়েল আহমদ ও মনির আহম্মদ মনোনয়ন প্রত্যাশী।

বড় তিন দল আ.লীগে একাধিক প্রার্থী, বিএনপিতে দুই ধারা আর জাতীয় পার্টির নড়বড়ে অবস্থানের মধ্যে নিরবে শক্ত অবস্থান করে নিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ্ব খলিলুর রহমান। তিনি ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও বর্তমানে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক। এবারই প্রথম তিনি প্রার্থী হলেও এলাকার উন্নয়নে ইতোমধ্যে ব্যাপক কাজ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। দলটির একটি বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে বলেও এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়। বিশেষ করে চরমোনাই পীরের ভক্তদের একটি বড় অংশ এ আসনে থাকায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন চরমোনাই পীরের দল থেকে মনোনীত এ প্রার্থী।

আরও পড়ুন: ফিরোজ মাঝির গল্প

ইতোমধ্যে তরুণ এ নেতা এলাকায় নিয়মিত জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষের সাড়া পাচ্ছেন বলেও জানা যায়। এলাকা মন্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব দেখেও এলাকায় বিশেষ কোনো উন্নয়ন দেখতে পাননি তারা। অপরদিকে আ.লীগের এবারের এমপিও অনেকটা গা ছাড়া। তারা নতুন কাউকে প্রত্যাশা করেন এ আসনে।

এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী খলিলুর রহমান ‘এখন’কে বলেন, ‘এদেশের বেশিরভাগ মানুষ মুসলমান। ইসলামী মনোভাবের মানুষকেই তারা প্রার্থী হিসেবে চান। পীর সাহেব চরমোনাইয়ের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তারা আমাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। আমিও আমার সর্বাত্মক দিয়ে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রেখে যাবো। আমার বিশ্বাস, মানুষ হাতপাখা প্রতীককেই বিজয়ী করবে।’