‘মাস্টার মশায়’ পরিচয়ে কলকাতায় লুকিয়ে ছিলেন খুনি মাজেদ

806

এতোবছর কোথায় লুকিয়ে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদ? খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসে শিউরে ওঠা তথ্য। যে লোকটা বঙ্গবন্ধুকে খুন করেছেন, সেই কী না কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে পরিচিত ছিলেন মাস্টার মশাই হিসেবে। কারও সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলতেন না। নিয়ম করে নামাজে যেতেন পাঁচওয়াক্ত। অথচ তিনিই খুন করে সেখানে ছদ্মবেশে পালিয়ে আছেন, এমনটা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না মহল্লাবাসী। এমনই এক খবর বেরিয়েছে কলকাতার পত্রিকা বর্তমানে।

আব্দুল মাজেদ অবশ্য সেখানে তার পরিচয় লুকানোর জন্য নামটাও পরিবর্তন করেছেন। নিজের নাম দিয়েছেন আলী আহমেদ। টিউশনি করে বেড়াতেন। পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তিনি। লোকজন জানতো, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে থেকে পাশ করেছেন এ মাস্টারমশাই।  প্রথমে তালতলার ভাড়া বাড়িতে একাই থাকতেন মাজেদ। পরে পার্ক স্ট্রিটে চলে আসেন।

২০১১ সালে বিয়েও করেন তিনি। তার থেকে থেকে ৩২ বছরের ছোট উলুবেড়িয়ার সেলিনা বেগমকে জুটিয়ে নেন। তাদের ছয়বছরের এক মেয়ে রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই  শরীর খারাপ যাচ্ছিলো তার। মাঝে মধ্যেই ধরনা দিতে হতো চিকিৎসকের।

গত ২২ ফেব্রুয়ারিও তিনি হাসপাতালে রিপোর্ট আনতে বের হন। তারপর আর ফেরেননি। তার উদ্বিগ্ন স্ত্রী রাতে পার্ক স্ট্রিট থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। তদন্তে শুরু করে পার্ক স্ট্রিট থানা। পিজি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ তন্নতন্ন করে ঘাঁটলেও হদিশ মেলে না মাজেদের।

সেই মাজেদ পরে গ্রেপ্তার হন ঢাকার মিরপুর থেকে। জানা গেলো লোকটিই বঙ্গবন্ধুর পলাতক কুখ্যাত খুনিদের একজন।

মাজেদের ভাড়া বাড়ি থেকে একটি ব্যাগ পায় কলকাতা পুলিশ। সেই ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে সিম কার্ড, আধার কার্ড, ভোটার আইডি, ভারতীয় পাসপোর্ট এবং এক মহিলা সহ তিনজন শিশুর ছবি পাওয়া যায়। স্ত্রী সেলিনা পুলিশকে জানায়, ব্যাগের মতো তাঁর অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসে কাউকে হাত দিতে দিতেন না মাজেদ।

বাড়ির প্রধান ফটক সবসময়ই বন্ধ থাকতো মাজেদের। বাইরের কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হতো না। এক আধ বছর নয়, এভাবেই আঠারো-উনিশ বছর ডেরা বেঁধে কলকাতায় আত্মগোপন করেছিলেন আব্দুল মাজেদ।