কুষ্টিয়ায় গৃহকর্মীর তৃতীয় শ্রেণির শিশুকন্যা প্রতিবেশির ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা

820

কুষ্টিয়ার মীরপুর উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী প্রতিবেশির ধর্ষণে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ওসমান ওরফে হামার (৫৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হলেও তার কোনো ঠিকানা জানা নেই কারো। শুধু জানা আছে ওই ব্যক্তির বাড়ি নওগাঁ জেলায়।

কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, পুলিশের কাছে শিশুটিকে নিয়ে আসার পর বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হতে পুলিশও উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেছে।

“প্রথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় শিশুটির মাকে বাদী করিয়ে তাদের প্রতিবেশী ওসমান ওরফে হামারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে।”

পরে পুলিশ শিশুটিকে হেফাজতে নিয়ে প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি জানান।

মামলার বরাত দিয়ে ওসি বলেন, শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। উদ্বাস্তু পরিবারের এই শিশুটি তার স্বামী পরিত্যাক্তা মায়ের সঙ্গে উপজেলার একটি আশ্রয়ন প্রকল্পে থাকে।

“প্রায় সাড়ে চার মাস আগে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরলে মায়ের অবর্তমানে পানি পানের কথা বলে বাড়িতে ঢুকে একই আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা প্রতিবেশী ওসমান ওরফে হামার ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে না বলতে হত্যার হুমকি দেন।”

ওসি জানান, মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখার পর তার মা প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে তার পরামর্শে মেয়েকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়।

ওসমানের গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলায় হলেও আশ্রায়ন প্রকল্পের ঠিকানা ছাড়া তার গ্রামের বাড়ির ঠিকানা বা বাবার নাম জানা যায়নি বলে ওসি জানান।

কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন জেসমিন আরা জানান, সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার সময় মিরপুর থানার পুলিশ ধর্ষণের ঘটনায় একটি শিশু ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নিয়ে আসেন্।

“প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে প্রায় সাড়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে মনে করা হচ্ছে।”

মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দুই সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল টিম করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও ডা. জেসমিন জানান।