এক সপ্তাহ পেছালো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা

906

আগামী জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য এক সপ্তাহ পিছিয়ে যাচ্ছে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৯। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো যৌথ উদ্যোগে এ মেলা রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে ১ জানুয়ারির পরিবর্তে ৯ জানুয়ারি শুরু হবে। এবার বাণিজ্য মেলার প্রধান প্রবেশদ্বার মেট্রোরেলের আদলে করা হবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মহাপরিচালক রমজান আলী বলেন, “নির্বাচনের কারণে এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা এক জানুয়ারির পরিবর্তে ৯ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হবে। এ মাসের মধ্যে স্টল বরাদ্দ শেষ হবে। এ পর্যন্ত ৪৩টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। গতবারের থেকে এবার বিদেশিদের আগ্রহ অনেক বেশি। মেলাকে আরও দৃষ্টিনন্দন করতে প্রধান গেট করা হবে মেট্রোরেলের আদলে। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের থিম থাকবে মেলাজুড়ে। এখন মাঠ পর্যায়ে কাজ চলে গেছে।”

আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৯ এর সদস্য সচিব মো. আব্দুর রউফ বলেন, “এবারের মেলায় প্রতিবারেরর মতো ভিন্ন আঙ্গিক আনার চেষ্টা করা হয়েছে। ভেতরে বেশ ফাঁকা রাখা হবে। মেলার দুই প্রান্তে সুন্দরবন ইকো পার্ক করা হবে। মেলায় এবার মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-র্পাক, এটিএম বুথ, রেডিমেড গার্মেন্টস, হোমটেক্স, ফেব্রিকস পণ্য, হস্তশিল্পজাত, পাট ও পাটজাত, গৃহস্থালি ও উপহারসামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য,  তৈজসপত্র, সিরামিক, প্লাস্টিক, পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হারবাল ও প্রসাধনী সামগ্রী, খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণসামগ্রী ও ফার্নিচার স্টল থাকবে।”

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্টল ও প্যাভিলিয়ন মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৫শ’ প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এবার নতুন করে ৪ থেকে ৫টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। তবে আমাদের প্যাভিলিয়ন মাত্র ২৬টি। তাই এবার একক দেশগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। দেশগুলো হলো-ভারত, পাকিস্তান, চীন, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ভুটান, নেপাল, মরিশাস, ভিয়েতনাম, মালদ্বীপ, রাশিয়া, আমেরিকা, জার্মানি, সোয়াজিল্যান্ড, অস্ট্রেরিয়া, হংকংসহ বিভিন্ন দেশ।

আয়োজকরা জানান, এবারের মেলায় সংরক্ষিত মহিলা স্টল ২০টি, প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৬০টি, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৮টি, সাধারণ প্যাভিলিয়ন ১৮, সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়িন ২৯টি,  প্রিমিয়ার স্টল ৬৭টি, রেস্টুরেন্ট তিনটি, সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন নয়টি, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন ছয়টি, বিদেশি প্যাভিলিয়ন ২৬টি, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন নয়টি, বিদেশি প্রিমিয়াম স্টল ১৩টি, সাধারণ স্টল ২০১টি ও ফুড স্টল ২২টি। এ পর্যন্ত ৫২১টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ডিজিটাল আ্যাক্সপেরিয়েন্স সেন্টার, ইকোপার্কসহ নতুন অনেক কিছুই থাকছে। মেলায় অব্যবস্থাপনা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে। ৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। মেলায় কোনো সাপ্তাহিত ছুটি নেই। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।

উল্লেখ্য, ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ২০ মিলিয়ন ডলার বা ১৬৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকার রফতানি আদেশ পেয়েছে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো। এর আগের বছর মেলায় ২৪৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বা ৩০ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলারের স্পট অর্ডার এসেছিল। ২০১৬ সালে ছিল ২৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। রাজনৈতিক সহিংসতায় দুই বছর ২০১৫ ও ২০১৪ সালে রফতানির আদেশ ছিল যথাক্রমে ৯৫ কোটি ও ৮০ কোটি টাকা। তার আগের বছর ২০১৩ সালে রফতানি আদেশ এসেছিল ১৫৭ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে মেলায় ৮৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে বলে জানায় ইপিবি।