প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতাত্তোর দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেও শুদ্ধি অভিযান চলুক

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর যেসব সরকারী কর্মকর্তা বা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের নামে-বেনামে দেশে-বিদেশে যেসব অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, তা অনুসন্ধান করা খুবই সহজ। প্রয়োজনে একটি নিরপেক্ষ দুর্নীতি অনুসন্ধান ও দমন টাস্কফোর্স গঠন করে মাত্র দুই বছরে দুর্নীতি স্বমূলে উৎপাটন করা সম্ভব।

850

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাংঙ্গালী, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিলো একটি দারিদ্র ও ক্ষুধামুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ হবে ধর্ম নিরোপক্ষ একটি স্বাধীন দেশ।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের এই দেশে স্বাধীনতার ৪৭ বছরে কিছু দুর্নীতিবাজ মানুষ দেশের উন্নয়নকে পেছনে ফেলে অবৈধ অর্থে আখের গুছিয়েছেন। হাজারো কোটি টাকার অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। দেশের সর্বস্তরের মানুষের এখন প্রত্যাশা, সরকারের বর্তমান শুদ্ধি অভিযান চলুক ৪৭ বছরে অবৈধ পথে ভাগ্য ফেরানো দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেও।

অবৈধ অর্থের পাহাড় গড়ে তোলা দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করার একটি সহজ পন্থা আছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর যেসব সরকারী কর্মকর্তা বা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের নামে-বেনামে দেশে-বিদেশে যেসব অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, তা অনুসন্ধান করা খুবই সহজ। মুক্তিযুদ্ধের সুবাদে স্বাধীনতার পক্ষের বা বিপক্ষের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং তাদের আত্মীয় স্বজনদের যেসব অবৈধ সম্পদের পাহাড় রয়েছে, তা অনুসন্ধান করা কঠিন ব্যাপার নয়। প্রয়োজনে একটি নিরপেক্ষ দুর্নীতি অনুসন্ধান ও দমন টাস্কফোর্স গঠন করে মাত্র দুই বছরে দুর্নীতি স্বমূলে উৎপাটন করা সম্ভব।

যেসব আমলা, রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে সেকেন্ড হোম গড়েছেন, তাদেরকে আটক করে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা যেতে পারে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার তো কিছু পাবার বা হারাবার নেই। স্বাধীনতার এই দীর্ঘ ৪৭ বছরের ভয়াবহ দুর্নীতির মূলে হাত দিলে আপনি শুধু জাতির কাছেই পুজনীয়ই হবেন না, আন্তর্জাতিক মহলেও হবেন সমাদৃত। আমার বিশ্বাস , মহান কাজটির জন্য আপনি ভূষিত হতে পারেন আন্তর্জাতিক সম্মানে।

দারিদ্র বিমোচনের আপনার নেয়া কর্মসুচী, দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় আপনার সক্রিয় ভূমিকা, আন্তধর্মীয় ও আন্তরাজনৈতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনার বলিষ্ঠ ভূমিকা গোটা জাতি কৃতজ্ঞতা ভরে আপনাকে স্মরণ রাখবে অনাদিকাল অবধি।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কারনে বঙ্গবন্ধুর অকাল প্রয়ানে জাতি আজ অবিভাবকহীন। এই অবিভাবকহীন জাতি স্বপ্ন দেখতে ভূলেই গিয়োছিল। আপনি তাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখিয়েছেন একটি মর্যাদাশীল জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে। বঙ্গবন্ধু তাঁর অকাল প্রয়ানে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেন নাই। আমার বিশ্বাস, সৃষ্টিকর্তা সেই দায়িত্ব আপনার উপর অর্পন করেছেন। আপনি ক্ষুধা ও দারিদ্রমূক্ত সোনার বাংলা গড়ার যে সুদৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগোচ্ছেন তা অব্যাহত রাখুন। সমগ্র জাতি ও আল্লাহ নিশ্চয়ই আপনার এই ভাল কাজে সহায় হবেন।

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার ও যুদ্ধপরাধীদের শনাক্তে রয়েছে সহজ কৌশল। মসজিদের সৎ ইমাম, নিষ্ঠাবান শিক্ষক এবং সমাজের গুনীজন, যাদের বয়স ৬০ থেকে ৭০ বছর, তাঁদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করলেই এর সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে। এভাবে প্রকাশ্য অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং প্রকৃত স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধ অপরাধীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে জাতিকে অপরাধ ও কলঙ্ক মুক্ত করুন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সাধারণ ও মেহনতি মানুষের উপর কতৃত্বকামী রাজনীতিবিদ ও আমলাদের প্রভুসুলভ আচরন বন্ধ করে সেবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে আপনার কঠোর নির্দেশনাই দেশকে আরো সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আল্লাহ আপনার সহায় হোন। আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ূ কামনা করছি।

লেখক : ড. নিম হাকীম, প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক, আগামী নিউজ.কম