বিশ্ব শান্তিসহ উন্নয়নে এক সঙ্গে কাজের অঙ্গীকার

842

এখন রিপোর্ট।।

বিশ্বে শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন, ঐক্য ও মুসলিম উম্মার কল্যাণে এক সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া পারস্পরিক উন্নয়নেও দুই দেশ একত্রে কাজ করবে বলেও উঠে এসেছে।

রোববার (০৫ জুন) স্থানীয় সময় দুপুরে জেদ্দার আল সালাম প্যালেসে সৌদি বাদশা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সাক্ষাতকালে তারা এই অঙ্গীকার করেন।

সাক্ষাৎ শেষে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম যৌথভাবে ব্রিফ করেন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সাক্ষাতকালে সৌদি বাদশা সালমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান বিশ্বে অস্থিতিশীলতা, নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে বিশ্বের শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন, ঐক্য এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য এক সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য, শ্রমিক আমদানি, বিশ্ব শান্তি, ঐক্য, উন্নয়ন, বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের মোকাবেলা, ইসলামের প্রচার ও প্রসারসহ বিভিন্ন বিষয়গুলো ওঠে।

সাক্ষাতকালে বাদশা বার বার বলছিলেন, পলিটিক্যাল, স্ট্যাট্রিক, বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় এক সঙ্গে কাজ করবো। একই সঙ্গে সৌদির ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এক সঙ্গে কাজ হবে।

উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যে দুই দেশের মধ্যকার অপার সম্ভবনার কথা উল্লেখ করেন বাদশা। তিনি দুই দেশের জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন।

সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে কাজ করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

শেখ হাসিনা বলেন, সবার কাছে প্রকৃত ইসলামকে পৌঁছে দিতে হবে। যাতে কেউ ইসলামকে ব্যবহার করে অন্য ধরনের ফায়দা লুটতে না পারে।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইসলামিক জোটের বিষয়টি উঠে আসে বৈঠকে।

জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বাদশা বলেন, এতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সৌদি আরব খুবই গুরুত্ব দেয়। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে একটা সুন্দর সম্পর্কও তৈরি হবে।

পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের বলেন, বাদশা মনে করেন বিশ্বে শান্তি, প্রগতি এবং স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে।

বাদশা বলেন, মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ।

বাংলাদেশের ৬৪ জেলা এবং ৪৯২ উপজেলায় মোট ৫৬০টি মসজিদ অ্যান্ড ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা করতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব ইসলামিক সেন্টারের উদ্দেশ্য হবে ইসলামের শান্তির বাণী, উন্নয়নের বাণীর প্রসার-প্রচার। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটা শান্তিপূর্ণ, সুন্দর দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব- তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাদশা সালমানের সঙ্গে আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাভাবনা শোনার পর বাদশা অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং বলেছেন আমরা এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারলে খুশি হবো।

এ বিষয়টি দেখার জন্য একজন সিনিয়র মন্ত্রীকে পাঠানোর কথাও বলেছেন বাদশা।

বাংলাদেশে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে আরবি ভাষা, সংস্কৃতি শিক্ষার্থীদের শেখানো হবে। যাতে ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যে কালো প্রপাগান্ডা এটাকে দূর করা যায়।

মানুষ অনলাইনে পড়তে পারে, জানতে পারে এ জন্য বাংলা, ইংরেজি এবং আরবিতে ডিজিটাল কোরআন শরীফ তৈরির কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এটি ‍শুনে সৌদি বাদশা অত্যন্ত আনন্দিত হন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো সহযোগিতা করার থাকলে তিনি তা করবেন।

বাদশার সঙ্গে সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী তার দুটি উন্নয়ন চিন্তার কথা তুলে ধরেন। যার একটি হলো বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের জন্যও আমরা একাধিক জোন নির্দিষ্ট করতে পারি। যেখানে বিনিয়োগকারীরা পাওয়ার, এনার্জি, এগ্রোবেইজ ইন্ডাস্ট্রি এবং আইটিসহ সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে পারবে।

ঢাকা শহরের চারপাশকে ঘিরে একটা মাল্টি মডাল সাকুলার ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম গড়ে তোলার বিষয়ে সৌদি আরবের সহযোগিতা চেয়ে বাদশাকে অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে বাদশা সঙ্গে সঙ্গে বলেন, এটা অত্যন্ত ভালো প্রস্তাব। এ বিষয়ে আপনি আমাদের স্পেশালাইজ ও সিনিয়র মন্ত্রীদের সঙ্গে আলাপ করবেন।

তিনিও এ বিষয়টি দেখার জন্য সিনিয়র মন্ত্রীদের বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে বিদ্যমান উন্নয়নের ধারার প্রশংসা করেন সৌদি বাদশা।

সৌদি আরবের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের হৃদয়ে সৌদি আরব একটা বিশেষ স্থান দখল করে আছে। কারণ দুই পবিত্র মসজিদ এখানে আছে, মক্কা-মদিনা এখানে। আমাদের রাসুল (সা.) জন্মস্থান এটি।

প্রধানমন্ত্রী বাদশাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। বাদশাও বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎ শেষে বাদশার নির্দেশনায় সৌদি তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে তার আবাসস্থল জেদ্দা কনফারেন্স প্যালেসে নিয়ে আসেন। সেখানে তথ্যমন্ত্রী ছাড়াও সৌদি অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা না পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।

সৌদি তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন বলেন, মুসলিম বিশ্বে নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি উদাহরণ। মুসলিম বিশ্বে নারী নেতৃত্ব উন্নয়নের ক্ষেত্রে কত কিছু অর্জন করতে পারে তিনি (শেখ হাসিনা) তার উপযুক্ত প্রমাণ।

বাদশা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক প্রসঙ্গে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি চমৎকার মিটিং হয়েছে। বাদশা অত্যন্ত খুশি হয়েছেন।

এছাড়াও বিকেলে কনফারেন্স প্যালেসে দুই দেশের পররাষ্টমন্ত্রী ফরেন অফিস কনসালটেন্সি বিষয়ক একটা চুক্তি সই করেন।