ছাত্রদলের দুই পক্ষের গোলাগুলি থামাতে অনশন করেছিলেন রিজভী

2002

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জনপ্রিয় ছাত্রনেতা ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে রাবি ক্যাম্পাসে থাকতেই গুলিবিদ্ধ হন সাবেক এ ছাত্রনেতা। বুলেট তার পেট দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তখন সবাই ধারণা করেছিলো, রিজভীকে হয়তো আর বাঁচানো সম্ভব নয়।

সুস্থ্য হয়ে আবারও ক্যাম্পাসে ফিরলেন রিজভী। ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে ছাত্রদের অধিকার আদায়ের আওয়াজ তুললেন। অল্পদিনে সবকিছু ছাপিয়ে রাবি ক্যাম্পাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবেও নিজের নাম লেখালেন রিজভী। আর সেই জনপ্রিয়তার পথ ধরেই রাকসুর ভিপি ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতিও হয়েছেন তিনি।

রাকসু ভিপি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি থাকাকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলে দুটি পক্ষ সৃষ্টি হয়। দুই পক্ষের সম্পর্ক অনেকটা সাপে নেওলের মতো। ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার করতে চলতো দুই পক্ষের গোলাগুলি। এ খবর রিজভীর কানে এলে তিনি এটা সমাধানের উদ্যোগ নেন। একদিন হুট করে কাউকে না জানিয়ে চলে চলে যান রাবি ক্যাম্পাসে। মাদার বক্স হল ও হবিবুর রহমান হলের মাঝখানের ফাঁকা জায়গাটাতে একা গিয়েই বসে পড়লেন ছাত্রদলের তৎকালীণ কেন্দ্রীয় সভাপতি রুহুল কবির রিজভী। দুই পক্ষই তখন তাকে দেখে খানিকটা অবাক। নিজেদের নেতাকে দেখে সালাম দিয়ে দুই পক্ষ অবস্থান নেয় দুইদিকে। রিজভীর মাথার উপর দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলিও চলে যায় উড়ে যাওয়া পাখির মতো। কিন্তু রিজভী অনশনে বসে গেলেন। উভয় পক্ষ এসব অস্ত্রবাজি না বন্ধ করলে তিনি অনশন ছাড়বেন না। বাধ্য হয়ে উভয়পক্ষ অস্ত্রবাজি বন্ধ করে। সবাইকে মিলিয়ে দিয়ে তিনি ফিরে আসেন ঢাকায়।

সেই রিজভী আহমেদ এখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। রাজশাহী সরকারি কলেজে পড়াশোনাকালীন ছাত্র রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি। প্রথমে বাম মতাদর্শের ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে ছাত্রদল যখন গঠিত হয়, তখন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।

রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক থেকে শুরু করে পরবর্তীতে ছাত্রদলের সর্বোচ্চ পদ কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদে বিপুল ভোট পেয়ে ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বৈচিত্রময় রাজনৈতিক জীবনের নানা অধ্যায় নিয়ে মাল্টিমিডিয়া পোর্টাল ‘এখন’ এর নিয়মিত আয়োজন ‘জীবনের গল্পে’ মুখোমুখি হয়েছেন এ রাজনীতিবিদ। রাজনীতি এবং রাজনীতির বাইরে ব্যক্তি জীবনের অনেক না বলা কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- রফিক রাফি। দুই পর্বের এ আয়োজনের আজ থাকছে শেষ পর্ব।

প্রথম পর্ব দেখুন: